আপনি কি স্যাপিওসেক্সুয়াল?

আপনি কি স্যাপিওসেক্সুয়াল?

মেয়েরা পুরুষদের প্রতি এবং পুরুষেরা মেয়েদের প্রতি ঠিক কোন কোন কারণে আকৃষ্ট হন বলুন তো? সৌন্দর্য, চেহারা থেকে শুরু করে ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা থেকে শুরু করে সম মানসিকতা বা একই রকম ভাবনাচিন্তা পর্যন্ত নানা কারণ রয়েছে যার জন্য একজন মেয়ে ও একজন পুরুষ পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। কিন্তু যদি শোনেন কেউ শুধু মাত্র অপরজনের মেধা বা বুদ্ধিমত্তার কারণে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন? অনেকেরই কথাটা শুনে ‘আঁতলামি’ মনে হতে পারে, কিন্তু এমন মানুষ সত্যিই আছেন! সম্পর্কের জটিল জগতে তাঁদের পরিচয় ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’।

কাকে বলে ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’?

মানুষ যখন কারও প্রেমে পড়ে তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই সে চেহারা, বাহ্যিক সৌন্দর্য ইত্যাদি দেখে প্রেমে পড়ে। কিন্তু এমনকিছু মানুষ আছেন যারা চেহারা কিংবা শারীরিক সৌন্দর্য নয়, শুধু বুদ্ধিমত্তা দেখেই প্রেমে পড়েন তারা। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’।স্যাপিওসেক্সুয়ালদের প্রেম ও যৌনতার অনুভূতি আবর্তিত হয় মস্তিষ্ককে ঘিরে। চেহারার কিছু ভূমিকা অবশ্য থাকে, কিন্তু তা নেহাতই সাময়িক। শারীরিক সৌন্দর্য বা সামাজিক অবস্থানের চেয়ে তাঁদের কাছে অনেক বড়ো হয়ে দাঁড়ায় উলটোদিকের মানুষটির বুদ্ধিমত্তা। উলটোদিকের মানুষটির গভীর চিন্তাশক্তি, কৌতূহলী মনোভাব, প্রচলিত ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করার মানসিকতা তাঁদের প্রচণ্ড আকৃষ্ট করে। মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, দার্শনিক আলোচনা থেকে তাঁরা রসদ সংগ্রহ করেন, এবং মনে করেন কারও যৌন আকর্ষণ শরীরে নয়, বরং তাঁর মেধায় লুকিয়ে থাকে।

কী মনে হচ্ছে এত দূর পড়ে? নিজের সঙ্গে কি মিল পাচ্ছেন কোথাও? তা হলে আর একটু বিশদে পড়ে জেনে নিন স্যাপিওসেক্সুয়ালদের কিছু বৈশিষ্ট্য আর মিলিয়ে নিন নিজের সঙ্গে!

আপনার পুরোনো সম্পর্কগুলো অঙ্কুরিত হয়েছে বন্ধুত্ব থেকে

স্যাপিওসেক্সুয়ালেরা কিন্তু চট করে প্রেমে পড়েন না। যেহেতু শারীরিক সৌন্দর্য তাঁদের টানে না, তাই প্রেমে পড়তে তাঁদের সময় লাগে। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে বন্ধুত্ব হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক ও বৌদ্ধিক সংযোগ হলে তবেই আসে প্রেমের প্রশ্ন।

প্রথম ডেটের আলাদা কোনও অর্থ আপনার কাছে নেই

প্রথম ডেট ঠিকমতো এগোলে অনেকেই মনে মনে পরবর্তী ডেটের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেন। স্যাপিওসেক্সুয়ালেরা কিন্তু ব্যতিক্রম! প্রথম দেখায় যেহেতু খুবই হালকা বিষয় নিয়ে ছোটখাটো কথাবার্তা হয়, তাই প্রথম ডেট তাঁদের কিছুই বলে না। উলটোদিকের মানুষটির কাছ থেকে তাঁরা কোনও ভাবনার রসদ পাচ্ছেন কিনা বোঝার জন্য অন্তত বেশ কয়েকবার দেখা করার প্রয়োজন হয়।

শারীরিক আকর্ষণ থাকতে পারে, কিন্তু সেটা বড়ো কথা নয়

মেধা বা বুদ্ধির আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি হলেও শারীরিক আকর্ষণ যে একেবারেই নেই, তা কিন্তু নয়! কিন্তু স্যাপিওদের কাছে শারীরিক আকর্ষণটা খুবই সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য কখনওই চেহারাটা বড়ো হয়ে দাঁড়ায় না তাঁদের কাছে।

কাউকে পছন্দ মানে সত্যিই পছন্দ

তার একটা কারণ স্যাপিওদের সহজে কাউকে পছন্দ হয় না, অনেকটা সময় লাগে। উলটোদিকের মানুষটার সঙ্গে মেধা ও বৌদ্ধিকভাবে সংযোগ স্থাপনের পরই আসে তাঁকে ভালো লাগার প্রশ্ন। ফলে যখন কাউকে তাঁদের ভালো লাগে, তখন সেটা বেশ সিরিয়াসই হয়!

আপনার বন্ধুত্বে জটিলতা আসা অসম্ভব নয়

স্যাপিওসেক্সুয়ালদের সব সম্পর্কই শুরু হয় বন্ধুত্ব দিয়ে, সেখানে প্রেমের ছিটেফোঁটাও থাকে না। তাই যখন আপনার মনে প্লেটোনিক স্তর পেরিয়ে প্রেমের সূত্রপাত হয়, তখন আপনার বন্ধুও একইরকম ভাবছেন কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। ফলে বন্ধুকে মনের কথা বলবেন কি বলবেন না, তা নিয়ে আপনার মনে সংশয় তৈরি হয়, বন্ধু যদি একইরকম না ভাবেন তা হলে বন্ধুবিচ্ছেদ হওয়াও অসম্ভব নয়!

আত্মম্ভরিতা বা বোকামি আপনি সহ্য করতে পারেন না

অতিরিক্ত চিৎকার করে, মেজাজ দেখিয়ে যাঁরা নিজেদের মত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন, তাঁরা স্যাপিওদের দু’চক্ষের বিষ। একইভাবে বোকামিও বিলকুল অপছন্দ তাঁদের। যাঁরা নিজেদের অনুভূতিকে যুক্তির সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে পারেন, যাঁরা চট করে মেজাজ হারান না, জটিল পরিস্থিতিকেও শান্তভাবে সমাধান করার চেষ্টা করেন, সেরকম পুরুষকেই পছন্দ করেন স্যাপিও মেয়েরা।

লোকে আপনাকে অহঙ্কারী ভাবে

খুব বেশি মানুষের সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা হয় না সচরাচর। প্রেমের সংখ্যাও আপনার খুবই কম। সাধারণত নিজের ছোট বৃত্তেই থাকতে পছন্দ করেন আপনি। তাই আশপাশের অনেকেই আপনাকে অহঙ্কারী বলে ভুল করেন। তাতে আপনার মোটেই বিচলিত হওয়ার কারণ নেই, নিজের পছন্দ আর ধ্যানধারণায় স্থির থাকুন।

ব্যাক্তিগত মতামত :
বলার অনেক কিছু আছে কিন্তু ভাষা পাচ্ছি না 😑 । অনেকক্ষণ ধরে কিবোর্ড ওন করে বসে থাকলাম কথা গুলো সাজিয়ে বলার জন্য কিন্তু না তাও হল না। থাক আজ। তবে হ্যাঁ এই ধরণের মানুষ গুলো তাদের জীবনের এত্ত এত্ত মানুষ এর মাঝে যে একজনের প্রেমে পড়তেছে বুঝতে হবে সেই একজন আসলেও অনেক বুদ্ধিমান ও ব্যতিক্রম চিন্তা শক্তির অধিকারী 😝।
আর এই ধরণের মানুষ তাদের জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে গভীর ভাবে মূল্যায়ন করে আর তাই তারা যেকোনো ব্যাপারে অন্য সবার থেকে সূক্ষ্ম ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে জীবনের সকল অতীতের শিক্ষার ভিত্তিতে।